১৭ বছর ধরে অবহেলায় মৃত্যুফাঁদ! রমজানপুর–টরকি সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে লাখো মানুষ
আশরাফুর রহমান হাকিম, নিজস্ব প্রতিবেদক :
একটি সেতু… যা হওয়ার কথা ছিল নিরাপদ চলাচলের পথ, সেটিই আজ পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে! মাদারীপুরের কালকিনির রমজানপুর থেকে বরিশালের টরকি বন্দরের এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ঢাল ১৭ বছরেও সংস্কার হয়নি।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের সঙ্গে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী টরকি বন্দরের একমাত্র সংযোগ সেতুর ঢাল দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুর ঢালে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র টরকি বন্দরে যাতায়াতের জন্য কালকিনি উপজেলার লাখো মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় এর ঢাল অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ১৭ বছর ধরে সেতুটির এই বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
বিশেষ করে ভ্যানচালক ও নিম্নআয়ের মানুষজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ে তাদের যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অনেক সময় আহতও হচ্ছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, “এত বছর ধরে একই সমস্যা চলছে। আমরা চাই দ্রুত এই সেতুর ঢাল ভরাট করে পাকা করে দেওয়া হোক, যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারি।”
এদিকে, সেতুটি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার প্রশাসনের আওতাধীন হওয়ায় মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাসিন্দাদের ভোগান্তি অনেকটা উপেক্ষিত রয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, “সেতুটি আমাদের অধীনে নয়, গৌরনদী উপজেলার প্রকৌশল বিভাগের আওতাধীন হওয়ায় আমরা সরাসরি কাজ করতে পারছি না।”
এদিকে সেতুটি ব্যবহার অনিরাপদ হয়ে পড়ায় অনেকেই বিকল্প হিসেবে নৌকায় করে যাতায়াত করছেন। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি, দুই জেলার প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির ঢাল সংস্কার করে পাকা করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।